Quantum ব্যাটারি: ভবিষ্যতের বিপ্লব

1

শক্তি সংরক্ষণের নতুন বিপ্লব

আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন আপনার স্মার্টফোনটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডে পুরোপুরি চার্জ হয়ে যেতে পারে? কিংবা একটি ইলেকট্রিক গাড়ি যা ৫ মিনিট চার্জ করে ৫০০ কিলোমিটার চলতে পারে? এই অসম্ভব স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার পথে কাজ করছে কোয়ান্টাম ব্যাটারি প্রযুক্তি। বিজ্ঞানীরা এখন নতুন উপায়ে শক্তি জমা করার জন্য কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মূল ধারণাগুলো ব্যবহার করে গবেষণা করছেন। তারা বর্তমান লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সমস্যাগুলো দূর করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত দশকে আমরা দেখেছি কিভাবে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং ইলেকট্রিক যানবাহন আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। কিন্তু এই সকল ডিভাইসের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো তাদের ব্যাটারি জীবন। quantum ব্যাটারি প্রযুক্তি এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে আসতে পারে। Massachusetts Institute of Technology (MIT) এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, quantum ব্যাটারি আলোর বেগে চার্জ হতে পারে, যা আজকের ব্যাটারির থেকে অনেক, অনেক দ্রুত।

Quantum ব্যাটারি আসলে কী?

কোয়ান্টাম ব্যাটারি একটি বিশেষ যন্ত্র, যা কোয়ান্টাম বিজ্ঞানের (কোয়ান্টাম মেকানিক্স) নিয়ম মেনে শক্তি ধরে রাখে। সাধারণ ব্যাটারির শক্তি আসে রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে। কিন্তু কোয়ান্টাম ব্যাটারির শক্তি থাকে কণাগুলোর একদম ছোট ছোট কোয়ান্টাম কণা রূপে।

বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব এবং কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সমন্বয়ে এই প্রযুক্তি বিকশিত হচ্ছে। কোয়ান্টাম কণাগুলো যখন সুপারপজিশন [ এটির মানে হলো কোয়ান্টাম কণাগুলোর একটি বিশেষ ক্ষমতা, যার মাধ্যমে একটি কণা একই সাথে একাধিক অবস্থায় বা রূপে থাকতে পারে। ] অবস্থায় থাকে, তখনই তারা খুব সহজে শক্তি সংরক্ষণ করতে এবং অন্য জায়গায় তা স্থানান্তর করতে পারে।

ধরা যাক আপনি পাঁচ টাকার একটি কয়েন উপরের দিকে ছুঁড়ে দিলেন। কয়েনটি যখন হাওয়ায় ঘুরছে, তখন তা একই সাথে হেড এবং টেইল - দুটো অবস্থাতেই আছে। মাটিতে না পড়া পর্যন্ত কিন্তু আপনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন না যে এটি ঠিক কোন অবস্থায় আছে। কোয়ান্টাম কণার ক্ষেত্রেও ঠিক একই ব্যাপার ঘটে।

আমরা যদি এভাবে চিন্তা করি যে, সাধারণ একটি ব্যাটারি হলো পানি ভরা বালতির মতো যেটি সাধারণ একটি পানির কল থেকে ধীরে ধীরে পূর্ণ হয়েছে , আর অপরদিকে কোয়ান্টাম ব্যাটারি হলো বড় পানির pump এর মতো যেটি খুব তাড়াতাড়ি পানি দিয়ে পরিপূর্ণ করে তোলে। University of Adelaide-এর গবেষকরা তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখিয়েছেন কিভাবে কোয়ান্টাম ব্যাটারি প্রচলিত ব্যাটারির তুলনায় ১০০ গুণ বেশি দক্ষ হতে পারে।

প্রচলিত ব্যাটারি বনাম Quantum ব্যাটারি: মূল পার্থক্যগুলো

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের দরকারি অংশ হয়ে উঠলেও এর বেশ কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

প্রথমত, এদের চার্জিং গতি অত্যন্ত ধীর। একটি সাধারণ স্মার্টফোনকে পুরোপুরি চার্জ করতে ১-২ ঘণ্টা সময় লাগে, আর একটি ইলেকট্রিক গাড়ি চার্জ করতে সময় লাগে ৬-১২ ঘণ্টা।
দ্বিতীয়ত, এদের শক্তি ধারণ ক্ষমতা কম। মানে হলো, একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সামান্য পরিমাণ শক্তি রাখা যায়।
তৃতীয়ত, "লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির আয়ুষ্কাল নির্দিষ্ট – সাধারণত ৫০০ থেকে ১০০০ বার চার্জ করার পরেই এদের ক্ষমতা অনেক কমে যায়। Stanford University এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহার হওয়া রাসায়নিকগুলো পরিবেশের জন্য বিরূপ প্রতিক্রিয়ার তৈরী করে , আর এগুলো রিসাইকেল (পুনর্ব্যবহার) করার পদ্ধতিও খুব কঠিন এবং বেশ ব্যায়বহুল ।"

Quantum প্রযুক্তি কীভাবে পরিবর্তন আনছে

এই প্রযুক্তি সকল সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রাখে। কোয়ান্টাম ব্যাটারিতে "কোয়ান্টান্টাম "Supperposition" এবং "entanglement" [ সাধারণত কোয়ান্টাম মেকানিক্সের একটি ঘটনাকে বোঝায়, যেখানে দুটি বা তারও বেশি কণা এমনভাবে সংযুক্ত থাকে যে একটি কণার অবস্থা পরিমাপ করলে অন্য কণাগুলোর অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায় ] নামক দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য কাজে লাগানো হয়। কোয়ান্টাম কণাগুলো Supperposition কারণে একই সময়ে একাধিক অবস্থায় থাকতে পারে, আর entanglement কারণে দুটি কণা এমনভাবে যুক্ত থাকে যে, তাদের মধ্যে দূরত্ব যাই হোক না কেন, একটি কণার অবস্থা জানার সাথে সাথেই অন্য কণাটির অবস্থাও সঙ্গে সঙ্গে জানা যায়।

কোয়ান্টাম মেকানিক্সের নিয়ম মেনে চলার কারণে কোয়ান্টাম ব্যাটারিটি একসাথে অনেক জায়গায় শক্তি জমা করতে পারে, যার ফলে চার্জ দেওয়ার গতি অনেক। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখিয়েছেন যে থিওরি অনুযায়ী, এটি আলোর গতিতে চার্জ হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে প্রয়োগ এর জন্য একে এখনো অনেক পরীক্ষার প্রোয়জন রয়েছে ।

কার্যক্ষমতার তুলনামূলক চিত্র

কার্যক্ষমতার দিক থেকে কোয়ান্টাম ব্যাটারি প্রচলিত ব্যাটারির তুলনায় অনেক এগিয়ে। একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়:

ব্যাটারি টাইপ
বিবরণ
লিথিয়াম-আয়ন (Li-ion)
চার্জিং গতি: ঘণ্টাব্যাপী
শক্তি ঘনত্ব: ১০০-২৬৫ Wh/kg
জীবনকাল: ২-৫ বছর
দক্ষতা: ৮০-৯০%
Quantum ব্যাটারি
চার্জিং গতি: সেকেন্ড/মিনিটে
শক্তি ঘনত্ব: ১০,০০০ Wh/kg
জীবনকাল: ২০+ বছর (আনুমানিক)
দক্ষতা: ৯৯%+

Quantum ব্যাটারির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

Quantum মেকানিক্সের মূলনীতিসমূহ

এই ব্যাটারির কাজ করার পেছনে রয়েছে Quantum মেকানিক্সের কিছু মৌলিক নীতি। এই নীতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো

  • ✨ Quantum superposition
  • 🔗 Entanglement
  • 🌀 Quantum coherence

এই ধারণাগুলো প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন বিজ্ঞানী Niels Bohr Erwin Schrödinger(এরউইন শ্রোডিঙার), এবং Albert Einstein।

Superposition এবং Entanglement এর ভূমিকা

Quantum, Superposition এবং Entanglement কোয়ান্টাম ব্যাটারির হার্ট হিসেবে কাজ করে।

  • Superposition এর কারণে ব্যাটারি একই সময়ে বিভিন্ন ভাবে চার্জ হতে পারে, তাই চার্জিংও খুব দ্রুত ভাবে হয়।
  • Entanglement নিশ্চিত করে যে ব্যাটারির সব অংশে শক্তি খুব পরিকল্পিত ও দক্ষ ভাবে পৌঁছায়।

University of Oxford-এর গবেষকরা ২০২২ সালে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন যেখানে তারা দেখান কিভাবে Entanglement কোয়ান্টাম স্টেট ব্যবহার করে শক্তি সংরক্ষণের দক্ষতা ৯৫% এরও বেশি পর্যন্ত উন্নীত করা সম্ভব। এই গবেষণা কোয়ান্টাম ব্যাটারির বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

Quantum Coherence এবং এর গুরুত্ব

এটি হলো সেই বিশেষ অবস্থা যখন Quantum সিস্টেমের সবগুলো কণা মিলিতভাবে কাজ করে। এটিকে আপনি একটি অর্কেস্ট্রার (Orchestra)-এর মতো ভাবতে পারেন, যেখানে সব বাদক সম্পূর্ণ ছন্দ ও তালে বাজায়।

quantum-orchesatra

কোয়ান্টাম ব্যাটারির জন্য এই সমন্বয় খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শক্তি নষ্ট হওয়া আটকায় এবং ব্যাটারির কার্যকারিতা বা দক্ষতা বজায় রাখে।

Harvard University-এর গবেষকরা ২০২৩ সালে একটি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন যার মাধ্যমে quantum Coherence বজায় রাখা সম্ভব, যা শুধুমাত্র অত্যন্ত ঠান্ডা তাপমাত্রায় সম্ভব ছিল। এই আবিষ্কার কোয়ান্টাম ব্যাটারিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য করার পথে একটি বড় অগ্রগতি।

Quantum ব্যাটারি কিভাবে কাজ করে?

শক্তি সংরক্ষণের নতুন পদ্ধতি

কোয়ান্টাম (Quantum) ব্যাটারিগুলো কাজ করে

  • Quantum Charging
  • এবং Quantum Discharging নামে দুটি নীতির উপর।

সাধারণ ব্যাটারিতে শক্তি জমা হয় রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। কিন্তু, Quantum ব্যাটারিতে শক্তি জমা থাকে Quantum কণাগুলির একটি বিশেষ অবস্থায়, যা "Quantum state" নামে পরিচিত।

এই বিশেষ ক্ষমতার কারণে Quantum ব্যাটারি প্রচলিত ব্যাটারির তুলনায় অনেক বেশি শক্তি সংরক্ষণ করতে পারে এবং তা করতে পারে অনেক কম জায়গায়।

Charge and Discharge প্রক্রিয়া

Quantum ব্যাটারির Charge এবং Discharge প্রক্রিয়া প্রচলিত ব্যাটারি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। Charge করার সময়, বাইরের শক্তির উৎস Quatum system কে এমন সক্রিয় অবস্থায় নিয়ে যায় যে এর কণাগুলো আরও বেশি শক্তির স্তরে পৌঁছায়। এই সময় Quantum Tunneling নামে একটি বিশেষ ঘটনা ঘটে। এর ফলে কণাগুলো কোনো শক্তি নষ্ট না করেই শক্তির বাধা বা দেওয়াল পেরিয়ে যেতে পারে।

discharge-charge

Discharge করার সময়, Quantum Entanglement নিশ্চিত করে যে শক্তি একটি সমন্বিত এবং নিয়ন্ত্রিত উপায়ে মুক্ত হয়। এই প্রক্রিয়াটি কাজ করে ঠিক সিঁড়ির মতো, যেখানে শক্তি প্রচলিত ব্যাটারির মতো একবারে মুক্তি না পেয়ে প্রতিটি ধাপে ধাপে নির্গত হয়। The University of Chicago এর গবেষকগণ এই পদ্ধতির একটি মডেল তৈরি করেছেন, যাতে তারা দেখিয়েছেন যে কোয়ান্টাম ব্যাটারি ৯৯% দক্ষতার সাথে শক্তি সরবরাহ করতে পারে।

Quantum state এ শক্তি সংরক্ষণ

Quantum স্তরে শক্তি জমা রাখার বিশেষত্ব হলো এটি খুব বেশি দিন টিকে থাকে এবং ঘনত্বও বেশি হয় (অর্থাৎ অল্প জায়গায় বেশি শক্তি রাখা যায়)। একটি Quantum ব্যাটারিতে, শক্তি Quantum মেমোরি" নামক এক বিশেষ অবস্থায় জমা থাকে। এই অবস্থায় জমা থাকা শক্তি, সাধারণ রাসায়নিক উপায়ে শক্তি জমার মতো, সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যায় না।

International Institute of Physics এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, কোয়ান্টাম অবস্থায় জমা রাখা শক্তি মাস এমনকি বছর ধরেও নষ্ট না হয়ে অক্ষত থাকতে পারে। এর ফলে এই ধরণের battery তে দীর্ঘ সময়ের জন্য শক্তি জমিয়ে রাখার ক্ষেত্রে খুবই উপযুক্ত। এই বিশেষ ধরণের ক্ষমতাটি নবায়নযোগ্য শক্তি (renewable energy) সংরক্ষণের জন্য বিশেষভাবে দরকারি, কারণ সূর্য বা বাতাস যখন পাওয়া যায় না, তখন শক্তি জমিয়ে রাখার প্রয়োজন হয়।

কোয়ান্টাম ব্যাটারির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

আলোর গতিতে চার্জিং ক্ষমতা

কোয়ান্টাম ব্যাটারির সবচেয়ে দারুণ দিক হলো এটি আলোর গতিতে চার্জ হতে পারে। এটি সম্ভব হয় একটি পদ্ধতির মাধ্যমে, যার নাম "Quantum Parallel Charging"। এই পদ্ধতিতে, একাধিক quantum অবস্থা একসাথে চার্জ হয়। যেখানে সাধারণ ব্যাটারিতে চার্জ ধাপে ধাপে বা একটার পর একটা হয়। কিন্তু quantum ব্যাটারিতে চার্জিং একই সময়ে (সমান্তরালভাবে) ঘটে।

Quantum-Parallel-Charging

University of Science and Technology of China-এর বিজ্ঞানীরা ২০২৪ সালে একটা quantum ব্যাটারির নমুনা (prototype) বানিয়েছেন। তাদের দাবি, এটা সাধারণ ব্যাটারির চেয়ে ২০০ গুণ দ্রুত চার্জ হতে পারে। যদিও এই ব্যাটারিটি এখনো শুধু ল্যাবরেটরিতেই আছে, তবুও এটা ভবিষ্যতের জন্য খুবই আশাব্যঞ্জক একটা দিক দেখাচ্ছে।

শক্তি ঘনত্ব এবং স্থায়িত্ব

Quantum ব্যাটারির শক্তি প্রচলিত ব্যাটারির চেয়ে অনেক বেশি। হিসাব করে দেখা গেছে যে, Quantum ব্যাটারি প্রতি কিলোগ্রামে প্রায় ১০,০০০ ওয়াট-ঘণ্টা পর্যন্ত শক্তি ধরে রাখতে পারে। এটা সাধারণ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির চেয়ে প্রায় ৫০ গুণ বেশি শক্তি। এই বেশি শক্তির মানে হলো, আমরা একই পরিমাণ শক্তি পাওয়ার জন্য অনেক ছোট এবং হালকা ব্যাটারি ব্যবহার করতে পারব।

স্থায়িত্বের দিক থেকেও কোয়ান্টাম ব্যাটারি অনেক এগিয়ে। প্রচলিত ব্যাটারি সময়ের সাথে সাথে তাদের ক্ষমতা হারায়, কিন্তু কোয়ান্টাম ব্যাটারির জীবনকাল অনেক বেশি হতে পারে কারণ এতে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষয় হয় না। MIT-এর গবেষকদের মতে, একটি কোয়ান্টাম ব্যাটারি ২০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে তার মূল ক্ষমতার ৯০% বজায় রাখতে পারে।

তাপমাত্রা সহনশীলতা

কোয়ান্টাম ব্যাটারি চরম তাপমাত্রায়ও কাজ করতে সক্ষম, যা প্রচলিত ব্যাটারির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি সাধারণত ০°C থেকে ৪৫°C তাপমাত্রার মধ্যে সঠিক ভাবে কাজ করে, কিন্তু Quantum ব্যাটারি -৫০°C থেকে ১৫০°C তাপমাত্রার মধ্যে stable performance দিতে পারে।

quantum-stable-performance

এই ব্যাটারিটি মহাকাশের যান, যুদ্ধের সরঞ্জাম আর খুব কঠিন পরিবেশের জন্য খুবই ভালো। University of Alberta এর বিজ্ঞানীরা একটি quantum ব্যাটারি তৈরি করেছেন যা মাইনাস ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও পুরোপুরি কাজ করতে পারে। এটি উত্তর মেরু (Arctic) এবং দক্ষিণ মেরুতে (Antarctic) গবেষণার জন্য খুব কার্যকরী ।

কতদিন চলে বা কতদিন টিকে

কোয়ান্টাম ব্যাটারিগুলোর জীবনকাল বা টিকে থাকার সময় সাধারণ ব্যাটারির চেয়ে অনেক বেশি।

ব্যাটারি টাইপ
বিবরণ
লিথিয়াম-আয়ন (Li-ion)
প্রায় ৫০০-১০০০ বার চার্জ দেওয়া-নেওয়া করলে নষ্ট হতে শুরু করে।
Quantum ব্যাটারি
১০,০০০ বারেরও বেশি বার চার্জ দেওয়া-নেওয়া করতে পারে!

এগুলো বানাতে সাধারণত এমন জিনিস ব্যবহার করা হয় যা বেশি পরিবেশবান্ধব (eco-friendly) এবং সাধারণ ব্যাটারির (conventional batteries) মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্য তৈরি করে না। যেমন, The University of Cambridge এর গবেষকরা এক ধরনের Quantum ব্যাটারির ধারণা দিয়েছেন যা পুরোপুরি পচনশীল জিনিস (biodegradable materials) দিয়ে তৈরি হবে। এর ফলে ব্যাটারির বর্জ্য (waste) সমস্যা কমানো যেতে পারে—এটা একটা দারুণ সমাধান!

Quantum ব্যাটারির প্রকারভেদ

বাস্তবায়নযোগ্য নকশা

এখন, নানা রকম কোয়ান্টাম ব্যাটারির নকশা শুধু ধারণার স্তরে প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সবথেকে বেশি আলোচিত হলো

Quantum Dot Battery
ছোট ছোট অর্ধপরিবাহী কণা (semiconducting nanoparticles) ব্যবহার করে চলে, যা তাদের আকারের ওপর নির্ভর করে তাদের বিদ্যুতের বৈশিষ্ট্য পাল্টাতে পারে।
Light-based Quantum Battery (or Photonic Quantum Battery)আলোর কণা বা ফোটন কাজে লাগিয়ে শক্তি ধরে রাখে, ফলে তারা খুব দ্রুত চার্জ হতে পারে।
Spin-based Quantum Battery
ইলেকট্রনের 'ঘূর্ণন' (স্পিন) ব্যবহার করে, যার ফলে তারা কম শক্তি খরচ করে কাজ করতে পারে।

ব্যবহারিক প্রয়োগের মডেল

দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের জন্য এখন বিভিন্ন কোয়ান্টাম ব্যাটারির মডেল নিয়ে গবেষণা চলছে। এর মধ্যে সবথেকে বেশি আশাব্যঞ্জক হলো "Hybrid quantum ব্যাটারি"। এটি কোয়ান্টাম ও পুরোনো প্রযুক্তির মিশ্রণে তৈরি। এই ধরনের মডেলগুলো আমাদের এখনকার ব্যবস্থার (Infrastructure) সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে।

hybrid-quantum-battery

University of Toronto-এর গবেষকরা গবেষকরা একটি নতুন ধরনের (হাইব্রিড) কোয়ান্টাম ব্যাটারির প্রাথমিক নমুনা বানিয়েছেন। এতে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির প্রযুক্তি এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। এই যন্ত্রটি সাধারণ ব্যাটারির চেয়ে ৫ গুণ বেশি শক্তি জমা রাখতে পারে এবং চার্জিং-এর গতিও ১০ গুণ দ্রুত। কোয়ান্টাম প্রযুক্তিকে বাজারে আনার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।

গবেষণার পর্যায়ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ

কোয়ান্টাম ব্যাটারি গবেষণাকে তিনটি প্রধান পর্যায়ে ভাগ করা যায়

Theoretical research-তাত্ত্বিক গবেষণা
Experimental prototype-পরীক্ষামূলক প্রোটোটাইপ
Commercial application-বাণিজ্যিক প্রয়োগ


বিশ্বব্যাপী গবেষণা এবং অগ্রগতি

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহ

যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো নামকরা গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোয়ান্টাম ব্যাটারি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এদের মধ্যে আছে MIT, Harvard University, Stanford University, এবং National Institute of Standards and Technology (NIST)। এই প্রতিষ্ঠানগুলো কোয়ান্টাম ব্যাটারির একদম মূল নিয়ম (বেসিক প্রিন্সিপাল) থেকে শুরু করে এটি কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে।

quantum-research

MIT-এর গবেষকরা ২০২৩ সালে একটি দারুণ সাফল্যের খবর প্রকাশ করেন। তারা সফলভাবে একটি কোয়ান্টাম ব্যাটারির ছোট মডেল (prototype ) বানিয়েছেন যা সাধারণ ঘরের তাপমাত্রায় কাজ করতে পারে। এটা একটা খুব বড় ধরণের উন্নতি, কারণ এর আগে বেশিরভাগ quantum যন্ত্রের জন্য খুব ঠাণ্ডা তাপমাত্রার দরকার হতো।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রকল্পসমূহ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, যার নাম "কোয়ান্টাম ফ্ল্যাগশিপ" (Quantum Flagship), সেটির মাধ্যমে কোয়ান্টাম প্রযুক্তির গবেষণায় প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করেছে । এই প্রকল্পের অধীনে অনেকগুলো ছোট ছোট প্রকল্প আছে, যার মধ্যে quantum ব্যাটারি নিয়ে কাজও রয়েছে।

University of Oxford এবং Delft University of Technology-এর বিজ্ঞানীরা একসঙ্গে গবেষণা করে এমন একটি quantum ব্যাটারির নকশা তৈরি করেছেন, যা তত্ত্ব অনুযায়ী ৯৯.৯% নিখুঁতভাবে শক্তি জমা বা স্থানান্তর করতে পারে। এই গবেষণাটি বিখ্যাত বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা Nature Physics-এ ছাপা হয়েছে এবং এটিকে কোয়ান্টাম ব্যাটারি গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এশিয়ার দেশগুলোর অবদান

এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে চীন, জাপান, এবং দক্ষিণ কোরিয়া কোয়ান্টাম ব্যাটারি গবেষণায় significant অবদান রাখছে। Chinese Academy of Sciences-এর গবেষকরা একটি কোয়ান্টাম ব্যাটারি prototype তৈরি করেছেন যা ১০ সেকেন্ডে একটি স্মার্টফোন চার্জ করতে সক্ষম।

new-model-quantum

University of Tokyo-এর গবেষণা দল একটি নতুন ধরনের কোয়ান্টাম ব্যাটারি মডেল প্রস্তাব করেছেন যা "Quantum Resonance" [ একটি অনুরণনমূলক প্রভাব যা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিশেষত যখন একটি চৌম্বকীয় দ্বিমেরু একটি স্থির চৌম্বক ক্ষেত্রের সংস্পর্শে আসে এবং একই সাথে একটি দোদুল্যমান তড়িৎ চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের দ্বারা প্রভাবিত হয়। ] নীতির উপর ভিত্তি করে। এই মডেলটি প্রচলিত ডিজাইনের তুলনায় বেশি stable এবং efficient।

বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান

প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা

Quantum ব্যাটারির সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হলো 'Quantum decoherence'— মানে, Quantum অবস্থাগুলোর অস্থিরতা। কোয়ান্টাম সিস্টেমগুলো যখন বাইরের পরিবেশের সাথে মিশে যায়, তখন তারা খুব তাড়াতাড়ি তাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো হারিয়ে ফেলে। এর ফলে কোয়ান্টাম ব্যাটারির কার্যকারিতা কমে যায়।

quantum-decrease

University of California, Berkeley-এর গবেষকরা একটি নতুন পদ্ধতি উন্নয়ন করছেন যার মাধ্যমে "কোয়ান্টাম error correction" ব্যবহার করে ডিকোহেরেন্স সমস্যা সমাধান করা যায়। এই পদ্ধতিটি কোয়ান্টাম তথ্যকে encode করে যাতে এটি বাহ্যিক interference-এর পরেও অক্ষত থাকে।

উৎপাদন ব্যয় এবং বাণিজ্যিকীকরণ

আরেকটি বড় সমস্যা হলো এটি বানানোর অনেক বেশি ব্যায়বহুল, কারণ এতে যে সব জিনিসপত্র এবং যন্ত্রপাতি ব্যবহার হয়, সেগুলোর দাম আকাশছোঁয়া। এই বেশি খরচ এটিকে সবার জন্য বাজারে আনতে (বাণিজ্যিকীকরণে) একটি বড় রকমের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

quantum-cheap-material

সমাধান হিসেবে গবেষকরা cheaper materials এবং scalable manufacturing processes-এর উপর কাজ করছেন。 IBM-এর গবেষকরা একটি নতুন fabrication technique উন্নয়ন করছেন যা quantum ডিভাইসের উৎপাদন ব্যয় ৯০% পর্যন্ত কমাতে পারে।

পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন

যদিও কোয়ান্টাম ব্যাটারি সাধারণ ব্যাটারির চেয়ে পরিবেশের জন্য ভালো হবে বলে মনে করা হয়, তবুও এর পুরো পরিবেশগত প্রভাব এখনো ভালো করে বোঝা যায়নি। ব্যাটারিতে ব্যবহৃত materials তোলার কাজ, তৈরির সময় কতটা শক্তি খরচ হয়, আর ব্যবহারের শেষে এগুলো কীভাবে ফেলা হবে—এই সবকিছুর প্রভাব পুরোপুরি বিশ্লেষণ করা দরকার।

University of Cambridge-এর গবেষকরা quantum ব্যাটারির পরিবেশের ওপর প্রভাব বোঝার জন্য একটি বিস্তারিত 'লাইফ সাইকেল অ্যাসেসমেন্ট' (সম্পূর্ণ জীবনচক্রের মূল্যায়ন) করছেন। প্রথম দিকের ফলাফল বলছে যে, কোয়ান্টাম ব্যাটারি তাদের পুরো জীবনকালে প্রচলিত ব্যাটারির তুলনায় কম কার্বন নিঃসরণ করতে পারে।

নিরাপত্তা বিষয়ক চিন্তাভাবনা

Quantum ব্যাটারির নিরাপত্তা বা সুরক্ষিত থাকাও একটি জরুরি বিষয়। এই ব্যাটারিতে শক্তি অনেক বেশি ঘন থাকে, যার মানে হলো এখানে নিরাপত্তা ঝুঁকির পরিমাণও বেশি থাকতে পারে—বিশেষ করে যদি ব্যাটারিটি কোনোভাবে নষ্ট হয় বা ঠিকমতো কাজ না করে। গবেষকদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে কোয়ান্টাম ব্যাটারি যেন সাধারণ ব্যাটারির মতোই, অথবা তার চেয়েও বেশি সুরক্ষিত হয়।

quantum-safty

Stanford University-এর একটি গবেষণা দল একটি "fail-safe" mechanism ডিজাইন করছেন যা কোয়ান্টাম ব্যাটারিতে কোনো malfunction হলে automatically শক্তি নির্গত বন্ধ করে দেবে। এই mechanismটি কোয়ান্টাম ব্যাটারির নিরাপত্তা significantly বৃদ্ধি করবে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং পূর্বাভাস

আগামী ১০ বছরের Roadmap

কোয়ান্টাম ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

প্রথম ২-৩ বছরে গবেষণা প্রধানত মৌলিক গবেষণা এবং ছোট আকারের মডেল তৈরির উপর মনোযোগ দেবে।
পরের ৩-৪ বছরে মাঝারি আকারের মডেল এবং প্রাথমিক বাণিজ্যিক ব্যবহার দেখা যাবে।
২০৩০-২০৩৫ সালের মধ্যে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে, কোয়ান্টাম ব্যাটারি বেছে নেওয়া কিছু বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে (selective commercial applications) পাওয়া যাবে, বিশেষ করে মহাকাশ এবং চিকিৎসার যন্ত্রপাতির (medical devices) মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে।
২০৩৫-এর পরে এটি সবার জন্য (mass market-এ) সহজলভ্য হবে বলে আশা করা যায়।"

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, ২০৩০ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে quantum ব্যাটারি কিছু নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে। বিশেষ করে, মহাকাশ গবেষণা এবং চিকিৎসা যন্ত্রপাতির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এর ব্যবহার শুরু হতে পারে। ২০৩৫ সালের পর থেকে এটি সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কোয়ান্টাম ব্যাটারি অনেকগুলো শিল্পখাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।

  • বিদ্যুৎ বা শক্তি খাতে (Energy sector): এটি পরিবেশবান্ধব শক্তি (যেমন সৌর বা বায়ু শক্তি) ব্যবহার করার গতি বাড়িয়ে দেবে।
  • পরিবহন খাতে এটি ইলেকট্রিক গাড়িকে সবার জন্য সহজলভ্য করে তুলবে।
  • ইলেকট্রনিক্স শিল্পে এটি ডিভাইস তৈরির নকশা এবং সেগুলোর কার্যকারিতায় (যা যা কাজ করে) যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।

McKinsey & Company-এর একটি রিপোর্ট অনুসারে, কোয়ান্টাম ব্যাটারি প্রযুক্তি ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারের (দুই লক্ষ কোটি ডলারের) বেশি বাজার মূল্য তৈরি করতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন শিল্পখাতে উৎপাদন ক্ষমতা এবং কাজের দক্ষতা অনেক বাড়বে।

সমাজ ও অর্থনীতিতে পরিবর্তন

এটি আমাদের সমাজ এবং অর্থনীতিতেও অনেক বড় পরিবর্তন আনবে। এটি সবার জন্য শক্তি বা বিদ্যুৎ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে দূরবর্তী এবং কম উন্নত এলাকাগুলোতে, যেখানে সহজে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কঠিন সেখানে খুব সহজেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।

quantum-energy-for-everybody

World Economic Forum এর একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কোয়ান্টাম ব্যাটারি সারা বিশ্বে বিদ্যুতের অভাব (বা দারিদ্র্য) কমাতে সাহায্য করতে পারে। সেই সাথে এটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাড়াতে সহযোগিতা করতে পারে এবং quantum প্রযুক্তি খাতে প্রচুর নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য সুযোগসমূহ

বাংলাদেশের জন্য কোয়ান্টাম ব্যাটারি প্রযুক্তি একাধিক বড় সুযোগ নিয়ে আসছে।

  • প্রথমত, এটি দেশের শক্তির নিরাপত্তা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে, পরিবেশবান্ধব শক্তিকে (যেমন: সৌর শক্তি) জাতীয় গ্রিডে ভালোভাবে যুক্ত করার মাধ্যমে এটি সম্ভব হবে।
  • দ্বিতীয়ত, এই প্রযুক্তি বাংলাদেশকে কোয়ান্টাম প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি Regional Hub পরিণত করতে পারে।

বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারকদের উচিত শুরুতেই quantum শিক্ষা এবং গবেষণায় অর্থ বিনিয়োগ করা। আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব তৈরি করে এবং স্থানীয় প্রতিভার বিকাশ মনোযোগ দিলে, এই নতুন প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

কোয়ান্টাম ব্যাটারি নিয়ে সাধারণ প্রশ্নাবলী

ব্যবহারকারীদের সাধারণ প্রশ্ন

প্রশ্ন: কোয়ান্টাম ব্যাটারি কি সত্যিই আলোর গতিতে চার্জ হয়?
উত্তর: তাত্ত্বিকভাবে, কোয়ান্টাম ব্যাটারি আলোর গতিতে চার্জ হতে পারে, কিন্তু ব্যবহারিকভাবে এখনও এই গতি অর্জন করা যায়নি। বর্তমান প্রোটোটাইপগুলো প্রচলিত ব্যাটারির তুলনায় ১০০-২০০ গুণ দ্রুত চার্জ করতে পারে।
প্রশ্ন: কোয়ান্টাম ব্যাটারি কি নিরাপদ?
উত্তর: Quantum ব্যাটারি প্রচলিত ব্যাটারির তুলনায় বেশি নিরাপদ হতে পারে, কারণ এতে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ কম থাকে এবং overheating-এর সম্ভাবনা কম।

বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি

প্রশ্ন: Quantum ব্যাটারি কবে বাণিজ্যিকভাবে available হবে?
উত্তর: অধিকাংশ বিশেষজ্ঞদের ধারণা হলো, আমরা ২০৩০ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে কিছু বাছাই করা ক্ষেত্রে কোয়ান্টাম ব্যাটারির ব্যবহার দেখতে পাব। তবে, সাধারণ মানুষের জন্য বা বড় পরিসরে তা বাজারে সহজলভ্য হতে ২০৩৫ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
প্রশ্ন: Quantum ব্যাটারির সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক সমস্যা কীী?
উত্তর: সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো quantum এর স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে যাওয়াকে সামলানো — অর্থাৎ quantum অবস্থাগুলোর স্থিতিশীলতা ধরে রাখা। এই অসুবিধা দূর করার জন্য গবেষকরা বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি সংশোধনের কৌশল নিয়ে কাজ করছেন।

বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে

প্রশ্ন: Quantum ব্যাটারিতে বিনিয়োগ করা কি বুদ্ধিমানের কাজ?
উত্তর: Quantum ব্যাটারি হলো এমন এক বিনিয়োগের ক্ষেত্র, যেখানে ঝুঁকি যেমন বেশি, তেমনি লাভ পাওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি। অল্প সময়ের জন্য এর বাজারদরে হয়তো অনেক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, তবে বেশি সময়ের জন্য এখানে বড় অঙ্কের মুনাফা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশ্ন: কোন কোম্পানিগুলো Quantum ব্যাটারি নিয়ে কাজ করছে?
উত্তর: IBM, Google, Microsoft-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি একাধিক নতুন ছোট সংস্থাও quantum ব্যাটারি প্রযুক্তির ওপর কাজ করছে। Tesla এবং QuantumScape- এর মতো কোম্পানি গুলোও এ বিষয়ে research করছে।

শেষের কথা:

Quantum ব্যাটারি প্রযুক্তি শক্তি জমা রাখার ভবিষ্যৎকে পুরোপুরি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি আমাদের বর্তমানের শক্তি সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতাগুলো পার হতে সাহায্য করতে পারে এবং আমাদের আরও বেশি টেকসই ও কার্যকর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

যদিও এটি বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্যিকীকরণের পথে এখনো অনেক বাধা রয়েছে, তবুও গবেষণার গতি ও অগ্রগতিতে আশা জাগিয়ে রাখে । সারা বিশ্বের গবেষক, প্রকৌশলী এবং উদ্যোক্তাদের একসাথে চেষ্টা এই প্রযুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে।

আমাদের বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ এনে দেয়, যার মাধ্যমে তারা প্রযুক্তির উন্নয়নে অনেকটা এগিয়ে যেতে পারে। এই উদীয়মান ক্ষেত্রে দ্রুত বিনিয়োগ এবং সক্ষমতা তৈরি করলে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী quantum প্রযুক্তির মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

Reference site :

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন